বিগত ২০০ বছরে রাজশাহীর বন্যপ্রাণীর ইতিহাস

পদ্মার চরে ঘড়িয়াল দেখি নি আমরা কোনদিনই, আগে গেলেই শুশুকের দেখা মিলত, এখন কালেভদ্রে উঁকি দিয়ে আমাদের ধন্য করে পদ্মার এই ডলফিনেরা। বন্যপ্রাণী বলতে দেখেছি কেবল শিয়াল, বেজি, গুইসাপ, বাদুড়, সাপ আর পাখি। তাই ১৯১৬ সালে ছাপা L S S Omalley রচিত রাজশাহী গ্যাজেটর-এ রাজশাহী অঞ্চলের সেই আমলের নানা পশু-পাখির কথা পড়ে ভাবলাম অসাধারণ কিন্তু করুণ সেই ইতিহাস বাংলা করেই ফেলি, অন্তত জানিয়ে রাখি কী হারিয়েছি আমরা– Continue reading “বিগত ২০০ বছরে রাজশাহীর বন্যপ্রাণীর ইতিহাস”

শতবর্ষ আগের ময়মনসিংহের পশু-পাখি

(F A Sachseর তত্ত্বাবধানে ১৯১৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ময়মনসিংহ গ্যাজেটর। সেখানের Fauna অংশটি এখানে দুর্বল বাংলায় দিলাম। এই অংশটি অনুবাদ করতে যেয়ে মূল সমস্যা হয়েছিল নাম নিয়ে, গত ১০০ বছরে প্রাণীদের বিশেষ করে পাখির জগতে নিত্যনতুন আবিষ্কারের ফলে, বিশেষত অধুনা ডি এন এ অ্যানালাইসিস করে দেখা গেছে অনেকে পাখির গোত্র এবং পরিবারের ক্ষেত্রে আমরা ভুল ভেবেছিলাম, তাই ইংরেজি নাম তো বটেই, সঙ্গত কারণেই বৈজ্ঞানিক নাম পরিবর্তন করা হয়েছে অনেক পাখির। যাদের কোন কোনটার বর্তমান নাম যে কী তা এখন পর্যন্ত খুঁজে পাচ্ছি না। এবং অতি দুঃখজনক ভাবে এখানে বর্ণিত কিছু পশুপাখি বাংলা তো বটেই, সারা পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, যেমন গোলাপিমাথা-হাঁস।) Continue reading “শতবর্ষ আগের ময়মনসিংহের পশু-পাখি”

চন্দ্রালোকে চন্দ্রাহত

ভোর চারটা, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬- সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড়ের গোলাবাড়িতে নোঙর করা মাদারশিপ থেকে আমাদের ছোট্ট নৌকা খাল দিয়ে ঢুঁকে পড়েছে লেচুয়ামারা বিলে, পশ্চিম দিগন্তে বিশাল এক মরচেরঙা চাঁদ, তার ভুতুড়ে কম্পমান ছায়া পড়েছে হাওড়ের আঁধার জলে। তখন কাকচক্ষু জল এতই কালো যে মনে হচ্ছে আমরা যেন শূন্যে ভেসে পাড়ি দিচ্ছি কাঠের নৌকায়, আমাদের গন্তব্য বুঝি ঐ দূরের চাঁদ, যা আজ নেমে এসেছে হাওড়ের কাছাকাছি। দূরে যেখানে ঐ আপাত অদৃশ্য জলের শেষ, সেখানে আঁধারেরা জমে জমেই বুঝি বা মেঘালয়ের পাহাড়ের আবছা রূপ নিয়ে দাড়িয়ে আছে পরাবাস্তবতার দূত হয়ে। Continue reading “চন্দ্রালোকে চন্দ্রাহত”

কী করে ভ্রমণ করবেন ?

সচলায়তন এবং নানা খবরের কাগজে নিজের টুকটাক অনুল্লেখযোগ্য ভ্রমণ নিতান্তই নির্লজ্জ আত্মপ্রচারের জন্য প্রকাশ শুরু করার পর থেকেই আজ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী সংখ্যক পরামর্শ যে বিষয় নিয়ে লেখার জন্য পেয়েছি তা হচ্ছে ভ্রমণ শুরু করবেন কি করে তার উপরে আলোকপাত করতে। আর যে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি তা হচ্ছে- হৈ মিয়াঁ, এত এনার্জি, সময় আর টাকা আসে কোথা থেকে? অনেক সময়ই ভেবেছি কোন এক অবসরে গুছিয়ে লিখব এই নিয়ে, কিন্তু সেই অবসর আর মিলে না, ঘুরতে গেলে সেখানে ব্যস্ততা আরও বেশী! তাই এই চটজলদি বিরতির মাঝেই জলবৎ তরলং করে একান্ত নিজের মত করেই বলি ব্যাপারখানা—

Continue reading “কী করে ভ্রমণ করবেন ?”

পাহাড়ি বাংলায়

তক্ষক ডাকছে।

সেই সাথে আছে ঝিঁঝিঁ পোকার জোরালো ঝিঁঝিঁ ডাক।

এই দুই ছাড়া বিশ্ব চরাচর ডুবে গেছে নির্জনতার মাঝে, জানালা দিয়ে রূপোলী সাঙ্গু নদী দেখা যায়, কাছে গেলে তাঁর কুলু কুলু অস্তিত্বও টের পেতে পারি, পারি তাঁর শরীর ভর্তি স্নিগ্ধতার পরশ পেতে। খানিক আগেই জুম মরিচের মহা ঝাল ঝাল ভর্তা আর মাছ-টম্যাটোর তরকারি রেঁধে দিয়েছিল যে লুসাই ভাইটি, সেও ঘুমিয়ে গেছে। অন্য ভবনে স্বপ্ন রত ভ্রমণসঙ্গী পর্বতারোহী এম এ মুহিত এবং কবি সৈয়দ আখতারুজ্জামান ভাইও। আমি ব্যস্ত জানালার বাহিরে পৃথিবীকে জীবনানন্দের বাদুড়ের ডানার মত নিস্তব্ধতার চোখে দেখতে সেই সাথে মাঝে মাঝে কালো কালো অক্ষরগুলোকে কীবোর্ডের মাধ্যমে প্রাণ দিতে। Continue reading “পাহাড়ি বাংলায়”

পিছন ফিরে দেখা – টাঙ্গুয়ার হাওর

হাজার হ্রদের দেশ ফিনল্যান্ডে বসে লিখছি, তীব্র শীত পড়েছে বরাবরের মত, পেজা পেজা তুলোর মত তুষার পড়ার দিন আপাতত শেষ, এখন হাড় জমানো ঠান্ডার রাজত্ব। হিমাঙ্কের ৩০ ডিগ্রী নিচে, এত ঠান্ডায় তুষারপাতও বন্ধ হয়ে যায়। পুরনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করছি আলগোছে, সাংবাদিক বন্ধু সীমান্ত দীপু আবার তাগাদা দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশে কোন উল্লেখযোগ্য জায়গায় ভ্রমণের উপর লেখা দিতে হবে। Continue reading “পিছন ফিরে দেখা – টাঙ্গুয়ার হাওর”

সুন্দর সুন্দরবন, কুৎসিত মানুষ – শেষ

সুন্দরবনে সবচেয়ে বিরক্ত হয়েছি করমজলে যেয়ে, কুমির প্রজনন কেন্দ্র অসভ্য মানুষের ভিড়ে সরগরম, একটা বানর বা পাখি দেখলেই ছুটে যেয়ে যাবতীয় নির্যাতনের চেষ্টা করা ছিল খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার, বিরিয়ানির মৌ মৌ গন্ধ ভরা দূষিত বাতাসে এই নিরীহ বানরটিকে বজ্জাত মানুষদের করা সবচেয়ে সুশীল প্রশ্ন ছিল- এই বান্দর, তোর পুটকি লাল কেন?

কী আশা রাখব আমরা মানুষের কাছে, তাদের আকাশচুম্বী লোভ, পাতালভেদী চাহিদার কাছে? অন্তত নিজেদের কাছে যেন আমরা এতটুকু আশা রাখতে পারি যে সুন্দরবনে সুন্দর আমরা নষ্ট করব না, সেখানে যেয়ে হরিণ মাংসের খোঁজে বন উজাড় করব না, বিরিয়ানি প্যাকেট ফেলে খাল ভরাট করব না।

Continue reading “সুন্দর সুন্দরবন, কুৎসিত মানুষ – শেষ”

সুন্দর সুন্দরবন, কুৎসিত মানুষ – ২

লীলেন দা তার সাকিন সুন্দরবনে লিখেছিলেন বর্তমানের সুন্দরবনের করুন কাহিনী-

নাচতে নাচতে গাজী সদরুল হাসে- আগে সুন্দরবনের পানিতে ভাসত মরা গাছ। এখন ভাসে পোড়া ডিজেল। ভটভট ভটভট ভটভট… সুন্দরবনের সব নদী এখন ভটভট ভটভট ভটভট। দিন রাত এখন সুন্দরবনে ট্রলার আর জাহাজের মিউজিক বাজে ভটভট। হরিণ পাতা খেতে এসে ট্রলারের শব্দ শুনে দৌড়ায়। বাঘ পানি খেতে এসে জাহাজ দেখে দৌড়ায়। কুমির রোদ পোহাতে ডাঙায় উঠে মানুষ দেখে নদীতে লাফায়। পুরা সুন্দরবনের মালিক এখন ভটভটিওয়ালা পর্যটকরা। বাঘ হরিণ বানর কুমির সবাইকে এখন ভটভটির আওয়াজ থেকে নিজেকে লুকিয়ে খেতে হয়- ঘুমাতে হয় এমনকি সংগমও করতে হয়… Continue reading “সুন্দর সুন্দরবন, কুৎসিত মানুষ – ২”

সুন্দর সুন্দরবন, কুৎসিত মানুষ – ১

অনেক আগে পাখিবিশেষজ্ঞ প্রকৃতিপ্রেমী ইনাম আল হককে জিজ্ঞাসা করছিলাম, প্রকৃতি রক্ষায় বাঙ্গালীর মত কেয়ারলেস জাতি কি বিশ্বে আর আছে? উনি সাথে সাথেই বলেছিলেন- অনেক আছে, এই থাইল্যান্ডের কথায় ধরেন, সেখানে মানুষের লোভের কাছে, প্রয়োজনের কাছে প্রকৃতি সম্পূর্ণ পরাজিত।

Continue reading “সুন্দর সুন্দরবন, কুৎসিত মানুষ – ১”