সুন্দর সুন্দরবন, কুৎসিত মানুষ – শেষ

সুন্দরবনে সবচেয়ে বিরক্ত হয়েছি করমজলে যেয়ে, কুমির প্রজনন কেন্দ্র অসভ্য মানুষের ভিড়ে সরগরম, একটা বানর বা পাখি দেখলেই ছুটে যেয়ে যাবতীয় নির্যাতনের চেষ্টা করা ছিল খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার, বিরিয়ানির মৌ মৌ গন্ধ ভরা দূষিত বাতাসে এই নিরীহ বানরটিকে বজ্জাত মানুষদের করা সবচেয়ে সুশীল প্রশ্ন ছিল- এই বান্দর, তোর পুটকি লাল কেন?

কী আশা রাখব আমরা মানুষের কাছে, তাদের আকাশচুম্বী লোভ, পাতালভেদী চাহিদার কাছে? অন্তত নিজেদের কাছে যেন আমরা এতটুকু আশা রাখতে পারি যে সুন্দরবনে সুন্দর আমরা নষ্ট করব না, সেখানে যেয়ে হরিণ মাংসের খোঁজে বন উজাড় করব না, বিরিয়ানি প্যাকেট ফেলে খাল ভরাট করব না।

Continue reading “সুন্দর সুন্দরবন, কুৎসিত মানুষ – শেষ”

সুন্দর সুন্দরবন, কুৎসিত মানুষ – ২

লীলেন দা তার সাকিন সুন্দরবনে লিখেছিলেন বর্তমানের সুন্দরবনের করুন কাহিনী-

নাচতে নাচতে গাজী সদরুল হাসে- আগে সুন্দরবনের পানিতে ভাসত মরা গাছ। এখন ভাসে পোড়া ডিজেল। ভটভট ভটভট ভটভট… সুন্দরবনের সব নদী এখন ভটভট ভটভট ভটভট। দিন রাত এখন সুন্দরবনে ট্রলার আর জাহাজের মিউজিক বাজে ভটভট। হরিণ পাতা খেতে এসে ট্রলারের শব্দ শুনে দৌড়ায়। বাঘ পানি খেতে এসে জাহাজ দেখে দৌড়ায়। কুমির রোদ পোহাতে ডাঙায় উঠে মানুষ দেখে নদীতে লাফায়। পুরা সুন্দরবনের মালিক এখন ভটভটিওয়ালা পর্যটকরা। বাঘ হরিণ বানর কুমির সবাইকে এখন ভটভটির আওয়াজ থেকে নিজেকে লুকিয়ে খেতে হয়- ঘুমাতে হয় এমনকি সংগমও করতে হয়… Continue reading “সুন্দর সুন্দরবন, কুৎসিত মানুষ – ২”

সুন্দর সুন্দরবন, কুৎসিত মানুষ – ১

অনেক আগে পাখিবিশেষজ্ঞ প্রকৃতিপ্রেমী ইনাম আল হককে জিজ্ঞাসা করছিলাম, প্রকৃতি রক্ষায় বাঙ্গালীর মত কেয়ারলেস জাতি কি বিশ্বে আর আছে? উনি সাথে সাথেই বলেছিলেন- অনেক আছে, এই থাইল্যান্ডের কথায় ধরেন, সেখানে মানুষের লোভের কাছে, প্রয়োজনের কাছে প্রকৃতি সম্পূর্ণ পরাজিত।

Continue reading “সুন্দর সুন্দরবন, কুৎসিত মানুষ – ১”